ব্লগ কি ? কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

Share:
যদি আপনি গুগলে সার্চ করে থাকেন কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আপনিও যদি একজন ব্লগার হতে চান তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য আজ আমরা এই পোস্টে জানবো ব্লগ কিব্লগিং কাকে বলে?  কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায়। ব্লগিং করতে কি কি প্রয়োজন হতে পারে। আর ব্লগিং করার সুবিধা কি?
ব্লগার কি


ব্লগ কি? ব্লগিং কি বা কাকে বলে? ব্লগার বলতে কি বোঝায়?

blog গুগলের তৈরি একটা ফ্রি সার্ভার যার সাহায্যে আমরা ওয়েবসাইট বানাতে পারি। যেমন ফেসবুকে আমরা নৃত্য নতুন পোস্ট করি তেমন ভাবেই ব্লগে করা যায় কিন্তু ফেসবুকে আমাদের পোস্ট শুধু বন্ধুরা দেখতে পায় আর ব্লগে পোস্ট করলে পৃথিবীর সকল মানুষ সেটা দেখতে পাবে।

আমরা যখন আমাদের প্রয়োজনীয় কোন কিছু অনলাইনে খুঁজি তখন সবার প্রথমে আমাদের মাথায় গুগলের কথা খেয়াল আসে কারণ আমরা জানি এখানে যেকোনো কিছু সার্চ করলে আমরা কোন সাইটে আমাদের উত্তর খুঁজে পাবো।

কিন্তু একবারও আপনি ভেবে দেখেছেন এই সব সাইটে কারা লেখে এতো গুলো উত্তর কি গুগল লেখে। আসলে তা না ব্লগ তৈরির পরে ব্লগে কোন কিছু লিখলে সেটা গুগল দেখায় আর ব্লগের এই লেখা পোস্ট পাবলিশ করা সাইট ডিজাইন করাকে ব্লগিং বলে

আর ব্লগার ডট কম থেকে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করার পরে সেই ব্লগটা যারা ডিজাইন করেন এবং ব্লগে নতুন নতুন আর্টিকেল লিখে ব্লগ পরিচালনা করেন তাদেরকে ব্লগার বলা হয়। 
Powered by blogger

কেন ব্লগিং করবেন / ব্লগিং করার সুবিধা

ব্লগিং করার অনেক সুবিধা রয়েছে বিশেষ করে সেই সকল মহিলাদের জন্য যারা বাড়িতে একা বসে বড়িং হয়ে যান তারা ব্লগিং করে তাদের রান্নার রেসিপি বা অন্যান্য প্রতিভা সকলের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

এছাড়াও যারা ছাত্র বয়েস থেকা টাকা আয় করার চিন্তা করেন বা পাট টাইম জব খুঁজছেন যাতে বাবা মায়ের কাছে টাকার জন্য হাত পাততে না হয় তারা ব্লগিং শুরু করে এডসেন্স থেকে পকেট মানি বার করে নিজেদের পড়ার খরচ টিউশনের টাকা ইত্যাদি বার করে নিতে পারেন।

যদি আপনি আপনার নলেজ সকলের সাথে শেয়ার করেন তাইতে আপনার জ্ঞান আরো বারবে আর অন্য জনের উপকারও হবে। এছাড়াও ইন্টারনেট জগতে নিজের জন্য আলাদা পরিচয় তৈরি করে নিতে পারবেন।
  1. ঘরে বসে এই কাজ করতে পারবেন।
  2. যেখানে খুশি যখন খুশি ব্লগিং করতে পারবেন
  3. আপনার মালিক আপনি নিজে যখন ইচ্ছে ছুটি নিতে পারেন। 
  4. কাজ না করেও ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারবেন।
  5. সেলেব্রিটি দের মতন সন্মান পাবেন।
  6. আপনার গোপন প্রতিভা সকলের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন। 
  7. আপনার লেখার কায়দা আরও উন্নত করতে পারবেন।
  8. নিজের আলাদ পরিচয় তৈরি করতে পারবেন।
  9. বিশ্বের সকল মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
  10. ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো 

টাকা আয় করতে এখন বহু মানুষ ব্লগিং শুরু করছে তবে এখানে আমি বলবো প্রথমে টাকার কথা ভুলে গিয়ে নিজের ব্লগিং এর ওপরে মনোযোগ দিন কারণ আপনার ব্লগ সাইট প্রপুলার হলে সেখানে কিছু ভিজিটর আসলে তবেই আপনি ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং শুরু করার আগে আমাদের ব্লগের জন্য কিছু জিনিষ প্রয়োজন হয় যেমন জিমেইল, ব্লগের টপিক, ব্লগের জন্য সুন্দর নাম, ডোমেইন, হোস্টিং, ব্লগিং করার প্লাটফর্ম যেখান থেকে ব্লগিং শুরু করা যায়। আর ব্লগের জন্য থিম।

step 1: ব্লগের জন্য টপিক খুঁজুন।


ব্লগের জন্য টপিক খুঁজতে হবে না আপনি যেই বিষয়ে বেশি পারদর্শী আপনার ব্লগের টপিকও সেটাই হওয়া উচিত কারণ আপনি সেই বিষয়ে জানেন সেই বিষয়ে সকলকে বোঝাতে পারবেন।

মনে করলাম আপনি যদি একজন ডাক্তার হয়ে থাকেন তবে health বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। আপনি যদি house wife হয়ে থাকেন রেসিপি রিলেটিভ ব্লগ বানাতে পারেন। আর যদি কিছু নাও জানা থাকে তবে কবিতা, গল্প ইত্যাদি বিষয় শেয়ার করতে পাীেন।

step 2: ব্লগের জন্য সুন্দর নাম রাখুন।


ব্লগের নাম পছন্দ আপনার ওপর ডিফেন্স করে। আপনি যেই বিষয়ে ব্লগ শুরু করতে চায়ছেন সেই category অনুযায়ী ব্লগের নাম রাখুন। যদি আপনি business করতে ব্লগের নাম খোজেন তবে অনলাইনে অনেক business name generator ফ্রি টুল পেয়ে যাবেন।

এমনটাও না যে ব্লগের টপিক অনুসারে ব্লগের নাম রাখতে হবে এমন অনেক ব্লগ রয়েছে যেখানে নাম আর টপিকের সাথে কোন মিল নেই কিন্তু গুগলের টপ লিস্টে রয়েছে যেমন Quora, Wikipedia,

এছাড়াও এমন ব্লগ রয়েছে যারা নিজেদের নামেই ব্লগের নাম রেখেছেন তার মধ্যে জনপ্রিয় সাইট ও seo specialist NeilPatel আপনিও ব্লগের নাম নিজের নামে রাখতে পারেন।

step 3: ব্লগের জন্য ডোমেইন সিলেক্ট করুন।

ডোমেইন হল ব্লগের ঠিকানা মানে আপনার ব্লগ সাইটে কোন কিছু পোস্ট করলে সেটা যেই ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া,যাবে তাকেই ডোমেইন বলছে। তবে ডোমেইন পছন্দ করার কিছু টিপস নিচে শেয়ার কার হলো।

  1. ব্লগের নাম ও টপিক অনুসারে ডোমেইন নাম রাখুন। উদাহরণ আপনার রান্নার ব্লগ হলে rannarecipes.com
  2. ডোমেইন নাম ছোট রাখুন যাতে মনে রাখতে সুবিধে হয়। উদাহরণ howbn.com 
  3. ডোমেইন নাম এমন রাখুন যেটা আগে ব্যাবহার হয়নি।  
  4. ডোমেইন নাম এমন রাখুন যেটা সহজে মনে রাখা যায়। 
  5. ফ্রি ডোমেইন ব্যাবহার করবেন না সম্ভব হলে ডট কম ডোমেইন কিনুন।
  6. ডোমেইনে সেম্বল বা সংখ্যা ব্যাবহার করবেন না। যেমন 123 বা (-)

step 4: ব্লগের জন্য হোস্টিং সিলেক্ট করুন।


ব্লগের জন্য হোস্টিং সিলেক্ট করার আগে আমরা জানবো হোস্টিং কি? সহজ ভাষায় বলতে গেলে হোস্টিং হলো আপনার ঘড় যেখানে আপনার ব্লগ সাইট হোস্ট করা থাকবে।

আমরা যদি মার্কেটে কোন সামগ্রী বিক্রি করি সেই সামগ্রী গুলো রাখার জন্য আমাদের একটা জায়গা বা দোকানের প্রয়োজন হয়। হোস্টিং ও তেমনি যেখানে আমাদের ব্লগ রাখা থাকে।

হোস্টিং অনেক ধরনের আছে যেমন shared hosting, cloud hosting, vps hosting, dedicated web hosting এখন আপনি কেমন ব্লগ শুরু করতে চায়ছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার হোস্টিং।

তবে এমন হোস্টিং কম্পানি পছন্দ করুন যারা uptime গোরেন্টি দেয় আর ২৪/৭ কাস্টমার সার্ভিস দিয়ে থাকে যেমন ইমেইল, লাইভ চাট, কল ইত্যাদি যাতে কোন সমস্যায় পড়লে সহজে যোগাযোগ করা যায়।

step 5: ব্লগের জন্য থিম পছন্দ করুন।

থিম হলো ব্লগের সুন্দর্য যেমন আমরা নিজেদের ঘড় সুন্দর করে রঙ করে সাজাই ব্লগের থিমও সেরকম আপনার ব্লগের জন্য একটা ভাল থিম পছন্দ কিভাবে করবেন নিচে দেওয়া হলো।

seo friendly : এমন থিম পছন্দ করুন যেটা আপনার ছাড়াও আপনার ভিজিটর আর সার্চইঞ্জিনের পছন্দ হবে।
mobile friendly : এমন থিম পছন্দ করুন যেটা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডিস্কটপের সাথে সাথে মোবাইলেও রেসপন্স করে কারণ এখন ৯০% মানুষ মোবাইলে সব কিছু সার্চ করে।
first looding : এটা কম্পিটিশনের যুগ আর মানুষ খুব ব্যাস্ত আপনার ওয়েবসাইট খুলতে দেরি হলে আপনার ভিজিটর অন্য সাইটে চলে যেতে পারে তাই ফাস্ট লোডিং ব্লগার থিম ব্যাবহার করুন।

step 6: ব্লগিং প্লাটফর্ম পছন্দ করুন।

ব্লগিং শুরু করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে আপনি আপনার ব্লগিং কেরিয়ার শুরু করতে পারেন তার মধ্যে থেকে প্রপুলার কিছু সাইটের নাম এখানে দেওয়া হলো।
শেষ কথা "final words"
আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে জানলাম ব্লগ কি, ব্লগিং কাকে বলে আর কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায়। তবে  best blogging platform বলতে যদি আপনি ফ্রি ব্লগিং করতে চান আপনার জন্য ব্লগার ভাল কারণ এখান থেকে সহজে সেখা যায়।

আর যদি আপনি সামান্য খরচা করে ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে পারেন তবে আপনার জন্য wordpress ভাল কারণ এখানে অনেক ফিচারস্ আছে এটা সম্পূর্ণ আপনার এখানে আপনি নিজের ইচ্ছা মতো ব্যাবহার করতে পারবেন।

আজকের পোস্টটি আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন। আর ব্লগিং বিষয়ে এমন আরও পোস্ট পেতে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন ধন্যবাদ।

আমাদের আরও কনটেন্ট পড়ুন

No comments